আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ : সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা অংশ নেন। বৈঠক শেষে ওই বাসায় আয়োজিত একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানেও ওসি যোগ দেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
জানা গেছে, আমজাদ হোসেন তাজু লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল এবং সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াতেই ওসি এসেছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অভিযুক্ত ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তবে লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন জানান, ওই বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই ওসি সেখানে গিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন