আজঃ শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ -এ ২৮ চৈত্র ১৪৩২ - ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার • ঘোড়াঘাটে মাইক্রো-ট্রাক মুখোমুখী সংঘর্ষ নিহত এক • একের পর এক চুরি, বেরোবি হলে বাড়ছে উদ্বেগ • সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: এ টি এম আজহারুল ইসলাম • হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ • হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার • ঘোড়াঘাটে মাইক্রো-ট্রাক মুখোমুখী সংঘর্ষ নিহত এক • একের পর এক চুরি, বেরোবি হলে বাড়ছে উদ্বেগ • সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: এ টি এম আজহারুল ইসলাম • হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

শ্যামাসুন্দরী থেকে তিস্তা

শ্যামাসুন্দরী  থেকে তিস্তা
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল

ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল

আপডেটঃ 9 ফেব্রুয়ারি, 2026


রংপুর জজকোর্টের দক্ষিণ প্রান্তে নির্মিত শ্যামাসুন্দরী খালের নামফলকে উৎকীর্ণ লিপি: 
পীড়ার আকর ভূমি এই রঙ্গপুর, 
প্রণালী কাটিয়া তাহ করিবারে দূর, 
মাতা  শ্যামাসুন্দরীর স্মরণের তরে, 
জানকী বল্লভ সূত এই কীর্ত্তি করে।

রংপুর জেলার তৎকালীন নীলফামারী মহকুমার ডিমলা জমিদারীর প্রতিষ্ঠাতা হররাম সেন,  বংশানুক্রমে পরবর্তীতে জমিদার হন হররাম সেনের নাতি নীলকমল সেন। নীলকমল সেন এর পুত্রকন‍্যা না থাকায় জানকী বল্লভকে দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন । নীলকমল এর স্ত্রী, জানকী বল্লভ এর মা ছিলেন শ‍্যামাসুন্দরী। ১৮৪২ সাল নীলকমল সেন এর মৃত‍্যর পর জানকী বল্লভ সেন ডিমলা জমিদারির মালিক হন। রংপুরের জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান হিসেবে জানকী বল্লভ সেন সুপরিচিত । জনহিতকর কাজের জন্য তিনি ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে রাজা উপাধি পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, রংপুর পৌরসভা জানকি বল্লভ সেনের বাগান বাড়িতে ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । সে সময়ে শহরে জলাবদ্ধতা হয়েছিল এক প্রকট সমস্যা। পয়নিষ্কাশনের অভাবে আর জলাবদ্ধতায় হয়েছিল ম‍্যালেরিয়াবাহী মশার উপদ্রব। ম‍্যালেরিয়ায় মৃত্যু হয়েছিল অসংখ্য মানুষের । তাদের মধ্যে মা শ‍্যামাসুন্দরী একজন, ম‍্যালেরিয়া রোগে অকাল মৃত্যু হয় তাঁর। মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত জানকীবল্লভ সেন সিদ্ধান্ত নেন শহরের মাঝখান দিয়ে খাল খননের-জলাবদ্ধতা অপসারণের, ম‍্যালেরিয়া রোগ থেকে শহরবাসীকে রক্ষার। শহরের মধ‍্য দিয়ে খনন করা হয় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল- খালটি শহরের উত্তর পশ্চিমে কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে এসে মিশেছে পুর্ব দিকে খোকশা ঘাঘটে। খালের নাম মায়ের নামে করে মা শ‍্যামাসুন্দরীকে তিনি চিরস্মরণীয় করেন। এই খাল উদ্বোধন করা হয় ১৮৯০ সালে ।


এর প্রায় ১০০ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি উৎপাদনে খাল খননের অপরিহার্যতা অনুধাবন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি খাল খনন কর্মসুচি চালু করেন, ১৯৭৭ থেকে  ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার খাল খনন করা হয় যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০০ কিমি । যার মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লক্ষাধিক একর জমিকে সেচের আওতায় আনা হয়েছিল; হয়েছিল অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, বিশেষ করে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ পরিচালিত হতো, যা স্বেচ্ছাশ্রমের এক অনন্য নজির। 


2026 সাল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার খাল খনন কর্মসুচি শুরুর প্রায় ৫০ বছর পর, তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন‍্যতম অঙ্গীকার- পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব‍্যারেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা, যাতে ৭৫ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে - এই নির্বাচনী অঙ্গীকার বিএনপির রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার প্রতিফলন। 


তিস্তা পারের মানুষের জীবনধারা তিস্তার স্রোতেই নির্ভর। উজানে ভারতের বাঁধ নির্মাণে, শুস্ক মৌসুমে প্রায় সব পানি ডাইভার্ট করায়, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ডাম্পিং করায় তিস্তা পারে বন্যা আর খরা স্থায়ী বাস্তবতা । ১৯৯৭ সালে যেখানে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার প্রবাহ ছিল ৬৫০০ কিউসেক, ২০১৪ সালে তা দাঁড়ায় মাত্র ৭০০ কিউসেক। এর প্রভাবে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় কৃষি উৎপাদন কমেছে ৩০-৪০% , ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১.৫-২ লাখ হেক্টর আবাদি জমি এবং আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ১৫০০-২০০০ কোটি টাকায়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সফল হলে ফলাফল প্রায় ১৭০ বর্গ কিলোমিটার নতুন ভূমি পুনরুদ্ধার, বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদীর নাব্যতা ফিরে পাওয়া, সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি । প্রায় ৫-৭ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো, গম, ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদন বাড়বে ২৫-৩৫%, নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ ও বাধ নির্মাণে বছরে ৫০০-১০০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে, পুনরুদ্ধার করা জমিতে গড়ে উঠতে পারে নতুন শহর, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্র- যাতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আর কর্মসংস্থানে আসবে অভুতপূর্ব পরিবর্তন ।

গত কয়েক বছরে বিএনপির আঞ্চলিক নেতৃত্ব লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে গনমিছিল, জনসমাবেশ এর মাধ্যমে তিস্তা পারের মানুষের মুল দাবি তুলে ধরায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিতে এবং বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারে, রংপুর অঞ্চলের মানুষের আস্থাভাজন হয়েছেন বিএনপি নেতৃত্ব। 

ড. সাদিক আহমেদ বিপুল 

প্রজেক্ট ম্যানেজার , সিটি অফ হ্যামিলটন , কানাডা
প্রফেসর , Mohawk  কলেজ , কানাডা

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

আমাদের ৯০-এর শৈশব: যে সময় আর ফিরে আসবে না
এ যেন নদী নয়, অনিশ্চয়তার আর্তনাদ।
মানুষ অভাগা জন্মায় না; তাকে অভাগা বানিয়ে রাখার জন্য সমাজ, রাষ্ট্র ও বাস্তবতার সমন্বিত অনীহাই যথেষ্ট।
আমরা এই মহামূল্যবান পৃথিবীর যোগ্য সন্তান হতে চেয়েছি।