কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি সহ নানা অভিযোগ
নিয়ম বহিভূর্ত ভাবে শিক্ষক নিয়োগ,জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন বিল এমপিওতে আনায়ন,তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী হকের স্বাক্ষর জাল করে কমিটি গঠন,টিউশন ফি’র টাকাসহ যাবতীয় আয় আত্মসাত,সরকারের দেওয়া কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বিক্রিসহ নানা অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ এনে নুহ ইসলামের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন এলাকার সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নারজু বেগম। নুহ ইসলাম নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সুপারিটেন্ডেন্ট।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এতে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা থাকলেও গত তিন মাসেও প্রতিবেদন দেয়নি তদন্ত কমিটি। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নানা প্রশ্ন দানা পাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।
জানা গেছে পতিত স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন যখন তুঙ্গে সেই সময়ে ২৭ ফেব্রুয়ারী বিধি বহির্ভূতভাবে তড়িঘড়ি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোপনে সহকারী শিক্ষক পদে জিয়াউর রহমানকে নিয়োগ প্রদান করেন সুপার নুহ ইসলাম। এ নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানে না এলাকাবাসী এমনকি ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরাও।
জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন বিল এমপিওতে আনায়ন,তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী হকের স্বাক্ষর জাল করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন,টিউশন ফি’র টাকাসহ যাবতীয় আয় আত্মসাত করেছেন। এদিকে সরকারের দেওয়া কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বিক্রিসহ নানা অনিয়ম ও দুনীর্তির করে আসছেন। এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম করে থেমে নেই তিনি। সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান ০১ জানুয়ারী—২৫ হইতে ১৭ জুলাই—২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরবিহীন ও হাজিরা খাতার প্রতিবেদন স্থাগিত করার পরেও তদন্তের প্রতিবেদন ছাড়াই ৯৫ হাজার ২শত ৫০ টাকা বিল উত্তলন করিয়েছেন। অভিযোগকারী নারজু বেগম বলেন,সুপার নুহ ইসলাম নিয়ম বহিভূর্ত ভাবে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুনীর্তির করে আসছেন। তার এসব অনিয়ম ও দুনীর্তির বিরুদ্ধে গত ০২ জুন—২৫ ইং তারিখে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্য একটি কমিটি করে দেন। কমিটির প্রতিবেদন না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেছের তারা। ১৫ দিনের নির্দেশনা তিন মাসেও কার্যকর হচ্ছে না।
মাদ্রাসা সুপার নুহ ইসলাম বলেন, আমি আপনাকে সন্ধ্যার সময় ফোন দেওয়াবো।
তদন্ত টিমের প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন আমি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছি। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার লিখিতভাবে এখন পর্যন্ত দুবার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এজন্য সময়মতো প্রতিবেদন দিতে পারি নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা বলেন,তদন্ত টিমের প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন