খানসামায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘর পুড়ে ছাই, দুই গরু নিহত
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে গোয়ালঘরে থাকা দুইটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং আরও কয়েকটি গবাদিপশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৈপাড়ার বাসিন্দা মৃত ভুপেন মাস্টারের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়ের গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে পুরো গোয়ালঘরটি গ্রাস করে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার সময় গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা গবাদিপশুগুলো বের হয়ে আসতে না পেরে আটকা পড়ে। এতে বিধান চন্দ্র রায়ের দুইটি গরু ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায়। নিহত গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া একই ঘটনায় বিধানের ভাই রতন কুমার রায়ের একটি রামছাগল ও দুটি গরু এবং একই পরিবারের মৃত শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে জগদীশ চন্দ্রের দুটি গরু গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। আহত গবাদিপশুগুলো বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না এবং সেখানে মশার কয়েল বা আগুন ব্যবহারের কোনো সুযোগও ছিল না। ফলে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দুর্বৃত্তদের দ্বারা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিধান চন্দ্র রায় বলেন, “ভোরে হঠাৎ গোয়ালঘরের দিকে তাকিয়ে আগুন দেখতে পাই। কিছু বোঝার আগেই পুরো গোয়ালঘর দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। চোখের সামনে আমার দুইটি গরু পুড়ে মারা যায়। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বা আগুন ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই। তাহলে আগুন লাগলো কীভাবে—এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”
আহত গরুর মালিক রতন কুমার রায় ও জগদীশ চন্দ্র বলেন, “আমাদের গরুগুলো মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। বাঁচবে কিনা তা নিয়েই শঙ্কা। যদি মারা যায়, তাহলে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বো। আমাদের কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই, তবুও কেন আমাদের গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হলো—এটা আমরা বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন,
“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না এবং স্বাভাবিকভাবে আগুন লাগার মতো কোনো কারণও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি রহস্যজনক এবং দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে খানসামা থানার এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আপাতত কাউকে সন্দেহ করছে না। তাৎক্ষণিকভাবে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের মাধ্যমে আহত গরুগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন