আজঃ মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ -এ ৩ চৈত্র ১৪৩২ - ২৮ রমজান ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম ১১ দিন বন্ধ • হারাগাছ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ঈদ উপহার • ঈদযাত্রায় চোখ রাঙাচ্ছে উড়ালসেতু • ঈদ যাত্রায় রেলবহরে যুক্ত হলো ৫টি রেলইঞ্জিন • গাইবান্ধার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে উপজেলা বিএনপির ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় • পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম ১১ দিন বন্ধ • হারাগাছ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ঈদ উপহার • ঈদযাত্রায় চোখ রাঙাচ্ছে উড়ালসেতু • ঈদ যাত্রায় রেলবহরে যুক্ত হলো ৫টি রেলইঞ্জিন • গাইবান্ধার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে উপজেলা বিএনপির ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

কর্মসংস্থান শুধু জীবিকা নয়, বদলে দিচ্ছে নারীদের জীবন

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

আনোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন , গাইবান্ধা সদর , গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 17 জানুয়ারী, 2026

গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীতে ঢুকলেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। লুম মেশিনে পাটের সুতা থেকে থান তৈরি, বস্তা সেলাই, তৈরি ও প্রিন্টিংয়ের কাজ করছেন সারি সারি নারী শ্রমিক। এখানে পুরুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অথচ উৎপাদন থেমে নেই, বরং প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার পাটের বস্তা। ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক নিয়ে পরিচালিত এই কারখানার নাম ওহি জুট ফাইবার্স মিলস; যেখানে কর্মসংস্থান শুধু জীবিকা নয়, বদলে দিচ্ছে নারীদের জীবন। পাটের বস্তার ভেতরেই যেন জড়িয়ে আছে নারীদের আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম আর স্বপ্ন। গাইবান্ধার এই কারখানা দেখিয়ে দিচ্ছে, সুযোগ পেলে নারীরাও পারে সমাজ এবং অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে।

 

সংগ্রাম থেকে স্বনির্ভরতা : সরেজমিন আলাপকালে লুম মেশিন অপারেটর মাহফুজা বেগম বলেন, আমরা এখানে ওভারটাইমসহ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করি। এখানে কাজ করে অনেক উন্নতি করেছি। এখানে অনেক ভালো বেতন পাই। এই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারের ভার এসে পড়ে মাহফুজার কাঁধে। তখনই কাজ নেন ওহি জুট ফাইবার্স মিলসে। শুরুটা ছিল পাটের সুতা থেকে থান তৈরির কাজে লুম মেশিন হেলপার হিসেবে। ধীরে ধীরে দক্ষতা বাড়ে, আসে পদোন্নতি। এখন তিনি লুম মেশিন অপারেটর। অভিজ্ঞতা ও পদোন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেতনও। এই আয়ের ওপর ভর করেই বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারের ব্যয় মেটান তিনি। মাহফুজা বলেন, সৎপথে কাজ করে জীবন চালানোর চেয়ে বড় সুখ আর কী হতে পারে! এখন আমরা সবাই মিলে অনেক ভালো আছি।

 

নারীরাই যখন ভরসা : ওহি জুট ফাইবার্স মিলস শুধু উৎপাদন বিভাগেই নয়, ব্যবস্থাপনাতেও নারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ ভাগই নারী। কারখানার প্রায় সব কার্যক্রমের তদারকিও করছেন একজন নারী ব্যবস্থাপক। কারখানার যাত্রা শুরুর থেকেই এখানে কাজ করছেন সাথী আকতার। তার দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। লুম মেশিন অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নারী বলেন, নিজের আয় থাকলে নারীর গুরুত্ব আলাদা হয়। আমরা এখানে প্রায় সব কাজই পারি। 

 

ব্যবস্থাপনায় নারী নেতৃত্ব : একসময়ের বামনেত্রী ও খেলোয়াড় সনিয়া সুলতানা লিথি বর্তমানে ওহি জুট ফাইবার্স মিলসের ব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, নদী ভাঙনকবলিত এই অঞ্চলে নারীদের কাজের সুযোগ খুবই কম। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবু এই কারখানার নারীরা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে তারাই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হতে পারেন।

 

মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি : ২০০৭ সালে মাত্র ৩৫ জন শ্রমিক নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কারখানার মালিক আবুল কাশেম সবুজ। তিনি জানান, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য পাটের বস্তা তৈরি ও প্রিন্টিংয়ের কাজই মূলত এখানে করা হয়। ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে তার স্পষ্ট অবস্থান। তার মতে, আমার অভিজ্ঞতায় নারীরা বেশি দায়িত্ববান। তারা অযথা সময় নষ্ট করেন না। 

 

উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি নারী : ওহি জুট ফাইবার্স মিলস সূত্রে জানা যায়, এখানে পাটজাত দ্রব্য থেকে তিন ধরনের কাজ হয়। সেগুলো হলো- পাটের সুতা থেকে থান ও বস্তা তৈরি, বস্তা সেলাই এবং বস্তায় প্রিন্টিং। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ হাজার বস্তা তৈরি হয় এখানে। আর প্রিন্টিং হয় প্রায় ৩০-৪০ হাজার বস্তায়। এসব বস্তা ১০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহনে ব্যবহৃত হয়। কারিগরি কিছু কাজে পুরুষ শ্রমিক থাকলেও বস্তা সেলাই, তৈরি ও প্রিন্টিংয়ের পুরো কাজই করেন নারীরা। নারীদের একাগ্রতা ও মনোযোগের কারণেই উৎপাদন তুলনামূলক ভালো বলে জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

 

নিরাপদ কর্মপরিবেশ : পাঁচ বছর ধরে এখানে অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন শোভা রানী। প্রতি মাসে যে বেতন পান তা বেশ ভালোই কাজে লাগে সংসারের চাকা ঘোরাতে। কর্মপরিবেশ নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ভিন্নরকম। তিনি বলেন, আমরা এখানে সবাই এক পরিবার হয়ে কাজ করি। এতে যেমন কাজের পরিবেশ ভালো থাকে, তেমনি মনও শান্ত থাকে।

 

কাজ বদলে দিয়েছে জীবনের মান : এই কারখানায় বস্তা তৈরির কাজ করেন শেফালী। তার স্বামী কৃষিকাজ করেন। সম্পূর্ণ নিজের আয়ে গ্রামে আধাপাকা বাড়ি করেছেন এই নারী। শুধু তাই নয়, দুই বিঘা জমিও ইজারা নিয়েছেন। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন নিজের আয়ের ওপর ভর করেই।

 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image