কান টানলে মাথা আসে না কেন? ডিমলায় পাথর সিন্ডিকেট রক্ষায় প্রশাসনের প্রহসন
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা পাথর খেকো সিন্ডিকেট দমনে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানকে ঘিরে জনমনে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১০ই মার্চ ২০২৬ তারিখে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানকে সচেতন মহল স্রেফ একটি ‘চোখের ধুলো দেওয়ার অপকৌশল’ বা নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চললেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রশাসনের উচ্চ মহলের চাপের পর নীলফামারী জেলা পরিষদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল সাত্তার কঠিন হুঁশিয়ারি প্রদানের পর তড়িঘড়ি করে মাঠে নামে ডিমলা থানা পুলিশ। তবে সেই অভিযানে ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানের ধরণ দেখে এলাকাবাসী স্তম্ভিত। নদীর বুক ক্ষতবিক্ষত করা পাথর উত্তোলনের মূল মরণাস্ত্র 'বোমা মেশিন ' কিংবা অবৈধ পাথর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলোর একটিও জব্দ করা হয়নি। স্পর্শ করা হয়নি সিন্ডিকেটের কোনো রাঘব-বোয়ালকে। উল্টো পেটের তাগিদে কাজ করা কয়েকজন নিরীহ দিনমজুরকে আটক করে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন -যাদের মেশিন, যাদের ট্রাক্টর এবং যারা এই কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের মূল হোতা তারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?শুধু ঘাম ঝরানো শ্রমিকরা কেন আসামি হবে?
অভিযোগ উঠেছে, পাথর সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের সাথে থানা পুলিশের নিবিড় সখ্যতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট প্রধানদের সাথে নিয়মিত চা-নাস্তার আড্ডায় বসতে দেখা যায়। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই সিন্ডিকেট সদস্য, মেশিন মালিক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে কেবল দিনমজুরদের ধরে নিজেদের ‘পিঠ বাঁচানোর’ চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রবাদ আছে, 'কান টানলে মাথা আসে', কিন্তু ডিমলা পুলিশের জাদুকরী অভিযানে কান টানলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ‘মাথা’ আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন