কাউনিয়ায় গমের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
কাউনিয়ায় চলতি মৌসুমে তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামে আমন ধান, সরিষা ও ভুট্টা এবং আলুর বাম্পার ফলনের পর এবার গমের বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক। কৃষক-কৃষাণীরা এখন গম কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবছর আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় খুশি গম চাষিরা।
সরেজমিনে তিস্তার চরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে তিস্তার চরের চিত্রটা এবার পাল্টে গেছে। একটা সময় ছিল যখন তিস্তা চর জুড়ে গম চাষ হতো। সেই দৃশ্য দিন দিন কমতে থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চরাঞ্চলসহ বেশ কিছু গ্রামে গম চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন চাষিরা। দেশে খাদ্যশস্যে ধানের পরেই রয়েছে গমের অবস্থান।
ভুতছাড়া গ্রামের চাষি জাহের আলী জানান, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে জমিতে গম বীজ বপন করা হয়। ফাল্গুনের শেষে ও চৈত্র মাসের প্রথম দিকে গম কাটা ও মাড়াই শুরু হয়। ইতোমধ্যে তিস্তারচরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামে চরের অনেক জায়গায় এরই মধ্যে গম কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে যা কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। উন্নত জাতের বীজের ব্যবহার ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে চাষিদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে।
ভুতছাড়া গ্রামের আর এক চাষি হাবিবুর রহমান জানান, ১৬শতক জমিেিত গম চাষ করেছি, মাঠজুড়ে এখন গম কাটার প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি ভাল ফলন পাব তবে দাম নিয়ে শংঙ্কায় আছি। চাষি শামছুল আলম জানান, ভাল বীজ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং মূলধন পেলে গম চাষের পরিধি আরও বিস্তৃতি লাভ করবে। ঢুসমারা চরের চাষি তাজুল ইসলাম জানান, ডুবে যাওয়া চরের জমিতে পলি পড়ায় ক্ষেতে সারের পরিমাণ কম লাগে। এজন্য তিস্তার চরে গম চাষে বেশি খরচ হয় না। এতে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। তবে গম চাষ বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগের তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। ফলে চাষিরা গমের পরিবর্তে অন্য লাভজনক ফসল বিশেষ করে ভুট্টা এবং তামাক চাষে ঝুঁকছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উন্নত জাতের গম ব্যবহার করে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন সম্ভব হলেও, বিকল্প লাভজনক ফসলের কারণে চাষিরা এই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায় চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮১ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের গম চাষের জন্য সব সময় উৎসাহিত করে যাচ্ছি। চাষিদের প্রণোদনা হিসেবে গম বীজ, সার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাড়াইয়ের সমস্যা, গমের চেয়ে অন্য ফসলে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা গম চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন। তবে যারা চাষ করেছেন তারা এবার বাম্পার ফলন আশা করছেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন