মাদকমুক্ত করতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে কমিটি গঠন, নারী মাদক ব্যবসায়ী পুলিশে সোপর্দ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইটাই গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে গঠন করা হয় মাদক নির্মূল কমিটি। এই কমিটির কার্যক্রমে ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে। হাকিমপুর উপজেলার প্রত্যন্ত ইটাই গ্রাম মাদকমুক্ত করতে ও গ্রামের তরুণ এবং যুবকদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে দুই দিন আগে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই মাদকবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়। প্রথমে গ্রামবাসী সবাইকে একত্রিত করে নিষেধ করা হয়, আপনারা কেউ যদি মাদকের ব্যবসা বা মাদক সেবন করে থাকেন, তাহলে বাদ দিয়ে দিন। পরবর্তীতে প্রমাণ পেলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ সময় এক নারী মাদক ব্যবসায়ী ভুল স্বীকার করলেও আবারও মাদক বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় ওই নারী ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ইটাই গ্রামে "ইটাই ভূমিহীন বহুমুখী সমবায় সমিতির" হলরুমে মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমা, হাকিমপুর সার্কেল এএসপি অ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন, ওই ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই মো. সুজা মিয়া, হাকিমপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আমিনুল ইসলাম, অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইমরান আলী, ইউপি সদস্য ছানোয়ার হোসেন লেবু, কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের পর মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ (এলাকায় কালি নামে পরিচিত) এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া গাঁজা সেবনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে সতর্ক করে তওবা করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক হওয়া ওই দুইজনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতি এবং মাদক নির্মূলে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক বিক্রি, সেবন, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন বা মাদকের সঙ্গে জড়িত আছে—এমন কাউকে শনাক্ত করতে পারলে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা বা পুলিশকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়। কারণ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
সভায় হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, সরকারি ভাবে যেহেতু মাদক নির্মূলে ইতিবাচক সাড়া এসেছে এবং দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন মহোদয় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাই তাঁর নির্বাচনী এলাকা হাকিমপুর উপজেলাকে শতভাগ মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অপরাধীদের তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। দেখবেন, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
হাকিমপুর থানার সার্কেল এএসপি অ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ গ্রামবাসীদের উদ্দেশে বলেন, মাদককারবারি বা মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিন, তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিন। তবে কোনো অবস্থাতেই কাউকে মারধর করা যাবে না, বাড়িঘর ভাঙচুর করা যাবে না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
সভায় বক্তারা ইটাই গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভা শেষে উপস্থিত গ্রামবাসীরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন