রাজারহাটে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে দুর্নীতির মহোৎসব,ওজনে কম ও মাপে শুভঙ্করের ফাঁকি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বারবার আপত্তি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় কাজটিতে চলছে ‘হরিলুট’। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সংঘবদ্ধ একটি চক্র চড়াও হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ (০৯ মে) শনিবার দুপুরে রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও R tv ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ-এর নেতৃত্বে একঝাঁক সাংবাদিক বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৩ নং ক্রস বাঁধ হতে ৪ নং ক্রস বাঁধ (গাবুর হেলান এলাকা) পর্যন্ত কাজের সরেজমিন তদন্ত করেন। তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প এলাকায় যে চিত্র উঠে আসে তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো।ওজনে ব্যাপক কারচুপি: সরকারি সিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি স্যান্ডসিমেন্ট (Sand-Cement) জিও ব্যাগের ওজন হওয়ার কথা ১৭৫ কেজি। কিন্তু সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল মেশিনে মেপে দেখা যায়, পানি ছাড়া একটি বস্তার ওজন মাত্র ১৩৬ কেজি। এমনকি পানিসহ ওজন করার পরেও আরেকটি বস্তার ওজন পাওয়া যায় মাত্র ১৬১ কেজি। উচ্চতায় শুভঙ্করের ফাঁকি: গাইডওয়াল থেকে টপ লেভেল পর্যন্ত উচ্চতা ৯.৮০ মিটার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া গেছে ৯ মিটারেরও কম।
কাজের ত্রুটি: বস্তা স্লোপিং করার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট 'লেপিং' বজায় রাখার কথা থাকলেও সেখানে বড় ধরনের গ্যাপ বা ফাঁকা লক্ষ্য করা গেছে, যা বাঁধের স্থায়িত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। দায়িত্বে অবহেলা: গুরুত্বপূর্ণ এই ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা তদারককারী সাইটে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন,দীর্ঘদিন ধরে এই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করে আসছিলেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ,একাধিকবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। উল্টো দুর্বল কাজের বিরুদ্ধে বাধা দিতে গেলে একটি প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র এলাকাবাসীর ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় তদন্তকালে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমান (নয়া দিগন্ত), খন্দকার আরিফ (ইত্তেফাক), রওশন আহমেদ (দ্যা ডেইলী নিউজ) এবং দৈনিক বায়ান্নর আলোর স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল হাকিম সবুজ। নদী ভাঙন কবলিত মানুষের রক্ষাকবচ এই তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম মহোদয় এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন