রৌমারী-ঢাকা দুরপাল্লার বাসে ব্যাপক চাঁদাবাজি’র অভিযোগ, চাঁদা না দেয়ায় গাড়ি আটক
রৌমারী-ঢাকা রুটে দুরপাল্লার বাসগুলোতে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিনের চাঁদা ছাড়াও নতুন গাড়ী নামালেই দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। চাঁদা না দিলে গাড়ী ও কাউন্টার দু’টিই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। রৌমারী বাস শ্রমিক সংগঠনের নামে এসব চাঁদা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমন অভিযোগ তুলেছেন আব্দুল মতিন নামের একজন বাস মালিক। তিনি রৌমারী-ঢাকা রুটে পরিবাহিত শাওন পরিবহনের মালিক।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌমারী শ্রমিক সংগঠনের ৫-৭ জনের একটি দল রৌমারী বাজারের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত শাওন কাউন্টারে এসে চাঁদা দাবি করে। এসময় বাস মালিক ও কাউন্টার মাস্টার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দলটি বাসটি আটক করে কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয়।
শাওন পরিবহনের মালিক আব্দুল মতিন জানান, দীর্ঘদিন থেকে রৌমারী টু মহাখালী রুটে আমার ৬টি বাস নিয়মিত চলাচল করেছে। যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদার ভিত্তিতে আমি এই রুটে কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতির অনুমোদন নিয়ে আরও ২টি নতুন গাড়ি যুক্ত করি। মালিক ও শ্রমিক সমিতির স্থানীয় শাখায় অনুলিপি জমা দিলেও শ্রমিক সংগঠনের ওলি মাহমুদ, জিন্নাহ আলী, মাইদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক নেতা টিকিট বিক্রি করতে এবং গাড়ী ছাড়তে বাধা দেয়। গাড়ী ছাড়তে কেন বাধা দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, শ্রমিক সংগঠনে টাকা না দিলে এ গাড়ী যাবে না। মূলত এ কমিটির মেয়াদ নেই। তারা কোন যুক্তিতে টাকা চান আমি বুঝি না।
শাওন পরিবহনের সুপারভাইজার আফছার আলী বলেন, কোনো মালিকপক্ষ নতুন গাড়ী এ রুটে যুক্ত করলে শ্রমিক সংগঠনকে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ৪২০ টাকা হারে ৫০টি বাস থেকে মাসে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। দেশের কোথাও এ নিয়ম না থাকলেও শুধুমাত্র রৌমারীতে এই অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয়।
চাঁদা দাবির বিষয় জানতে চাইলে রৌমারী শ্রমিক সংগঠনের কার্যকরী সহ-সভাপতি জিন্নাত আলী বলেন, আমরা কাউন্টারে গিয়েছিলাম তা সত্য। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, বাস কাউন্টারে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন