আজঃ বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ -এ ২৬ চৈত্র ১৪৩২ - ২১ শাওয়াল ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• সোনাহাট সেতুর পাশ হতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে নির্মাণাধীন সেতু ও তীর রক্ষা বাঁধ • বেরোবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রক্টরের বাঁধা • ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ড না থাকায় জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান • নীলফামারী প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত • তারাগঞ্জে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে গরু হাটি ঢালাইয়ের অভিযোগ • সোনাহাট সেতুর পাশ হতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে নির্মাণাধীন সেতু ও তীর রক্ষা বাঁধ • বেরোবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রক্টরের বাঁধা • ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ড না থাকায় জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান • নীলফামারী প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত • তারাগঞ্জে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে গরু হাটি ঢালাইয়ের অভিযোগ

সোনাহাট সেতুর পাশ হতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে নির্মাণাধীন সেতু ও তীর রক্ষা বাঁধ

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

এস এম নুরুল আমিন

এস এম নুরুল আমিন , ভুরুঙ্গামারী , কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 8 এপ্রিল, 2026

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
 নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশ থেকে বালু তোলায় সেতুটি যেমন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তেমনি হুমকিতে পড়েছে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, তীরবর্তী বসতভিটা ও ফসলি জমি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছর পুরোনো একটি রেলসেতু রয়েছে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এর দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ২০১৯ সালে ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে।
 ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার দফা সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কুড়িগ্রাম সওজ জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা।

সেতু ও বাঁধের কাছেই ড্রেজার:

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন সেতুর কাছেই এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধের পাশে দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন বা রেললাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু ও নির্মাণাধীন নতুন সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের:

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কফিলুর রহমান, মাহবুব ও বাবু বলেন, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে পাউবো ব্লক ফেলে দুধকুমার নদের ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এসব ব্লকের পাশেই এবং নদীর পূর্ব তীরে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পাউবোর ব্লক সরে গিয়ে তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি ও ভুট্টাক্ষেতও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ড্রেজারের মালিক মাসুদ রানা সম্প্রতি বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে সেতু ও তীর রক্ষা বাঁধের এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

যা বলছেন অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টরা:

অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে কাজ করা এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাঁকে বালু তুলতে বলেছেন। ওই বালু দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উত্তোলিত বালু অন্য কোথাও বিক্রি করা হচ্ছে না।

তবে এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, সেতু নির্মাণের বালুর কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে। কাউকে নদী থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং এমন নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ারও তাঁদের নেই।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। জায়গাটি ৬২ রেকর্ডের জমি বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি আছে কি না, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সেখানে লোক পাঠানো হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image