বেরোবিতে মবের অভিযোগে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ সিনিয়র কর্মকর্তা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-নথি সিস্টেম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত “ট্রেনিং অব ট্রেইনারস” প্রশিক্ষণ থেকে এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিনুর রহমানকে মব সৃষ্টি করে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপ-গ্রন্থাগারিক ও সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন (সিডিটি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে গিয়ে আমিনুর রহমানকে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে বাদ না দিলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
পরে সিডিটি পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে আমিনুর রহমানকে প্রশিক্ষণে অংশ না নিতে অনুরোধ করেন। শুক্রবার (১৫ মে) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ২৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে একমাত্র তাকেই বাদ দেওয়া হয়। ফলে একাডেমিক শাখা থেকে কোনো কর্মকর্তা এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ ১৫ ও ১৬ মে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ইউজিসির ডি-নথি সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, গত ১০ মে আমিনুর রহমানকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয় এবং তার সম্মতিও গ্রহণ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে মনোনয়ন প্রদানে আগ্রহী।” পরবর্তীতে ১২ মে তিনি সম্মতিপত্র পাঠান এবং তার হোয়াটসঅ্যাপে প্রশিক্ষণের মডিউলও পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল অতিরিক্ত পরিচালক (গ্রন্থাগার) ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অসঙ্গতি উল্লেখ করে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করেন আমিনুর রহমান। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে ৯ মে নির্ধারিত নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়।
ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা রয়েছে, মবের নেতৃত্বদানকারী মামদুদুর রহমান ও ড. জিয়াউল হক উক্ত পদগুলোতে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় ছিলেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আমিনুর রহমান বলেন, “আমাকে চিঠি দিয়ে সম্মতি গ্রহণ করার পর প্রশিক্ষণে যেতে নিষেধ করা দুঃখজনক। কারো কথায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতার পরিচায়ক। আমার যৌক্তিক অবস্থানে কেউ ক্ষুব্ধ হলে প্রশাসনের উচিত হয়নি তাদের প্রশ্রয় দেওয়া। এ বিষয়ে আমি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব।”
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন