আদিতমারীতে জন্মান্ধ ৫ সদস্য নিয়ে অসহায় পরিবার
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ০১ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী শাংকার চওড়া গ্রামে একটি পরিবারে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে এসেছে।
পরিবারটির মোট ৯ সদস্যের মধ্যে ৫ জনই জন্মান্ধ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য ও সীমিত আয়ের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
পরিবারের কর্তা এমদাদুল হক (৫৭) নিজেও জন্মান্ধ। তাঁর সঙ্গে একই পরিবারে আরও চারজন সদস্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জীবনযাপন করছেন। অন্ধত্বের কারণে স্বাভাবিক কোনো কাজ করতে না পারায় সংসারের নিত্যদিনের খরচ জোগাড় করাই তাদের জন্য হয়ে উঠেছে কঠিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস সামান্য সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা। এছাড়া মাঝে মাঝে গান গেয়ে বা মানুষের সহানুভূতিতে পাওয়া সামান্য অর্থই তাদের জীবিকার এক মাত্র ভরসা।ফলে অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে কিংবা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবারে পাঁচজন প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা সত্ত্বেও তারা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। এতে করে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তারা।
পরিবারটির আকুতি, সমাজের সহৃদয়বান মানুষ ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে তারা কিছুটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন, আদিতমারী উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো হলে অন্ধকারে ডুবে থাকা এই পরিবারটির জীবনেও হয়তো নতুন আলোর দেখা মিলবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন