ক্ষুদে সওয়ারি হালিমার ঘোড়দৌড়ের নৈপুণ্যে জমে উঠল লালমনিরহাটের বৈশাখী উৎসব।
লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আনন্দ উৎসব ও মেলা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটির উদ্বোধন করেন সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং বিএনপির নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। উৎসবের প্রথম দিনেই মাঠজুড়ে উপচে পড়া ভিড় ও প্রাণবন্ত পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণের মিলনমেলা।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় শতাধিক সওয়ারি এতে অংশ নেন। তবে সবার নজর কাড়েন নওগাঁর আলোচিত ক্ষুদে সওয়ারি হালিমা বেগম। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হালিমা এবারও অসাধারণ নৈপুণ্য, সাহসিকতা ও গতিময় পারফরম্যান্স দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তার প্রতিটি দৌড়ে মাঠজুড়ে বেজে ওঠে করতালি আর উচ্ছ্বাস।
প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শকদের অনেকেই বলেন, এত অল্প বয়সে হালিমার দক্ষতা সত্যিই বিস্ময়কর। তার ঘোড়া নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও আত্মবিশ্বাস সকলকে মুগ্ধ করেছে।
মূল আয়োজন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলা। এর মধ্যে ছিল উটকুন দিয়ে দড়ি পাকানো, চকর চাল, মেয়েদের কিতকিত, ধীরগতির দড়ি খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, বাটুল ছোড়া, গোচা খেলা ও চেংকু পেন্টিসহ নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজন। এসব খেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু বছর পর এমন আয়োজন দেখে তারা আবেগাপ্লুত। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত খেলাধুলা আবার চোখের সামনে ফিরে আসায় তাদের মনে ভিড় করছে পুরোনো দিনের স্মৃতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আমাদের শিকড় হচ্ছে এই গ্রামীণ সংস্কৃতি। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে ঐতিহ্যবাহী এসব আয়োজন পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে নিজের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী লায়লা হাবিব, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক, জেলা প্রশাসক মু. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ তাঁদের সহধর্মিণীরা। এছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
উৎসবের প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এতে জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী লায়লা লোকজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও থাকবে ঘোড়দৌড়ের ফাইনাল পর্ব, লোকজ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন