বিএনপি নেতার উপর ছাত্রদল নেতার হামলার অভিযোগ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির এক নেতাকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ রাশেদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম কৌশলে চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহাতাব উদ্দীন খানকে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে ঠাকুরগাঁওয়ে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। অন্যজনের সাথে ঝামেলা হলেও আমার নাম জড়ানো হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহাতাব উদ্দীন খান বলেন, রাশেদুলের ভাইয়ের কাছে আমি টাকা পাই। এ বিষয়ে আমি রাশেদুলের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে কোনো সমাধান দেয়নি। আমাকে ঠাকুরগাঁও এ মারধরের ঘটনায় রাশেদুল জড়িত। কারণ সে ঠাকুরগাঁও এ থাকে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাশেদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে গেলে মাহাতাব উদ্দীনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তানও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে। ঘটনায় রাশেদুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন