পঞ্চগড়ে সঠিক পদ্ধতিতে কুরবানীর পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে সঠিক পদ্ধতিতে কুরবানীর পশু জবাই, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, কুরবানীর পশু জবাই ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই ধর্মীয় বিধান মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারলে দেশের চামড়া শিল্প অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং চামড়ার অপচয় অনেকাংশে কমে আসবে।
কর্মশালায় পশু জবাইয়ের পূর্বে ও পরে করণীয়, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবহন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন। তিনি বলেন, চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুত লবণ প্রয়োগ ও সঠিক পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকলে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানোর পদ্ধতি, কুরবানীর পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপসারণ ও জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়ে আলোচনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা। তিনি বলেন, কুরবানীর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মরিয়ম রহমান পশু জবাইয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ এবং জুনোটিক রোগ সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য জবাইয়ের আগে ও পরে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও চামড়া ব্যবস্থাপনা এবং চামড়া শিল্পের বিকাশে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন ডা. মরিয়ম রহমান। তিনি বলেন, কুরবানীর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা ও ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করেন ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোসাম্মৎ আশা আনারকলি। প্রদর্শনীতে চামড়া ছাড়ানোর সঠিক কৌশল, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবধর্মী ধারণা দেওয়া হয়।
ধর্মীয় অনুশাসন ও হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই সম্পর্কে আলোচনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে পশুর প্রতি মানবিক আচরণ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে জবাই করার নির্দেশনা রয়েছে। কুরবানীর সময় ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ইমামগণ তাদের নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব বিষয় সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন