পীরগাছায় পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতিতে দুই বছরেও সেচ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি কৃষকের
রংপুরের পীরগাছায় একটি সেচ পাম্প স্থাপনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-১, পীরগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ফলে কোন উপায় না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী।
জানা যায়, উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রতাপজয়সেন একটি কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রায় দুই বছর আগে সরকারি বিধি মোতাবেক একটি সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়। পাম্প স্থাপনের পরপরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লিবিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী কৃষক শাহ কুতুবউদ্দিন বখতিয়ারের অভিযোগ, একাধিকবার পল্লিবিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। ডিজিএম আশরাফুল ইসলামের কাছে সরাসরি বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় জহুরুল ইসলাম বলেন, “সরকার কৃষি উন্নয়নের কথা বলছে, অথচ সেচ পাম্প বসানোর দুই বছর পরও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছি না। বারবার অফিসে ঘুরেও কোনো ফল পাচ্ছি না।” সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ না দিলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ফসল ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযুক্ত রংপুর পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-১ পীরগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই পাম্পের পাশে আরেকটি সেচ পাম্প থাকায় তাকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় নাই। অন্য একটি সেচ পাম্প থাকাকালীন কিভাবে আরেকটি সেচ পাম্পে স্থানের অনুমোদন দেওয়া হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বিএডিসি কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
বিএডিসি রংপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসউদুল করিম রানা ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে সোলার সংযোগ স্থাপনের আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন