১১ মাস পর দেশে ফিরল আইজুরের মরদেহ, বিএসএফের বিরুদ্ধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের
দীর্ঘ ১১ মাস পর ভারতের কারাগার ও হাসপাতাল হয়ে অবশেষে দেশে ফিরল ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজুর আইজুর রহমানের (৩৫) মরদেহ। গলো শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত আইজুর রহমান রাণীশংকৈল উপজেলার সাহানাবাদ গ্রামের মরতুস আলীর ছেলে। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। পরবর্তীতে জানা যায় তিনি ভারতের শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্দি ছিলেন। গত ২২ মার্চ তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আজ মরদেহ দেশে ফিরল।
শুক্রবার দুপুরে তেঁতুলিয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আইজুরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সীমান্তের বাতাস। মরদেহ গ্রহণ শেষে বিকেলের দিকে সেটি তাঁর নিজ গ্রামে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর স্থানীয় এক কৃষকের খেতে ভুট্টা ভাঙার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে জান তিনি। সেখান থেকে তাকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে পা ভেঙে দেয়। পরিবারের দাবি, জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘাস কাটতে থাকা অবস্থায় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই ধরে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না।
পরবর্তীতে ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি ভিডিওর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, আইজুর শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সেখানেও আইনি জটিলতায় পরিবারের কেউ তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘ ১১ মাস পর গত ২২ মার্চ এক ভারতীয় আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।
আইজুরের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী কোনো অপরাধী ছিলেন না। তাঁকে আমাদের সীমানা থেকেই ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। পিটিয়ে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং শরীরে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। আমার স্বামীকে জ্যান্ত ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, আর এখন ফিরল তাঁর লাশ। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
এদিকে নিহতের সন্তানরাও কান্নায় ভেঙে পড়ে সরকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, একজন নিরস্ত্র দিনমজুরকে এভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাঁরা এই ঘটনার জন্য দায়ী বিএসএফ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় স্থানীয় বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানিয়েছিলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইজুরের মরদেহ আজ সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাস প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের লাশ ফিরে পাওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন