আজঃ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ -এ ২৪ মাঘ ১৪৩২ - ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• আমরা নির্বাচিত হলে দেশকে দূর্নীতি মুক্ত করা হবে : মতিউর রহমান • তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নীলফামারীতে শুভেচ্ছা মিছিল • যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবে না, তারা হবে সেবক : শিবির সেক্রেটারি • নাগেশ্বরীতে স্থানীয় অংশীদারদের সাথে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ ও ইন্টারেক্টিভ সভা • ঘোড়াঘাটে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ • আমরা নির্বাচিত হলে দেশকে দূর্নীতি মুক্ত করা হবে : মতিউর রহমান • তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নীলফামারীতে শুভেচ্ছা মিছিল • যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবে না, তারা হবে সেবক : শিবির সেক্রেটারি • নাগেশ্বরীতে স্থানীয় অংশীদারদের সাথে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ ও ইন্টারেক্টিভ সভা • ঘোড়াঘাটে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ

ঘোড়াঘাটে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন , হিলি , দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 5 ফেব্রুয়ারি, 2026

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদে এখন হলুদ চাদরে ডাকা পরেছে সরিষার মাঠ। প্রকৃতির ষড় ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেমনি প্রকৃতির রূপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠ। এখন হলুদ চাদরে ঢাকা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মাঠ। মাঠ জুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। দুচোখ যেদিকে যায়,সে দিকে শুধু মন জুড়ানো সরিষা ফুলের দৃশ্য। গাঢ় হলুদ বর্ণের সরিষার ফুলে ফুলে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের জন্য গুনগুন করছে। চলছে মধু আহরণের পালা। মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে মাঠে নেমেছে। শীতের শিশির সিক্ত মাঠভরা সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। মানুষের মনকে পুলকিত করছে।

সরিষার ক্ষেতগুলো দেখে মনে হয় কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। এখন শুধু দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে।

 তাই ঘোড়াঘাটে ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

 উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২হাজার ২৮৪ হেক্টর জমিতে বারি-১৮ জাতসহ বারি-১৪,১৫,৯,১১,১৭জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে।

যা গত বছরের তুলনায় কম।গত মৌসুমে সরিষার আবাদ হয়েছিল ২হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘোড়াঘাট পৌরসভার শ্যামপুর এলাকার সরিষা চাষী ইয়াকুব আলী  বলেন কয়েক বছর আগেও তাদের জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকত বর্তমান সেই জমিতে সরিষা আবাদ করা হচ্ছে। সরিষা ঘরে ওঠানোর পর আবার সেই জমিতে ধান লাগানো হবে।

 উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের জয়নুল আলম ও শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন সরিষা চাষ করতে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এপরিমান জমিতে খরচ বাদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে আশা করছি। সরিষা চাষের জন্য জমিতে যে সার ব্যবহার করি পরবর্তীতে বোরো ধান আবাদের সময় সারবেশি দেওয়া লাগে না। আমাদের খরচ কিছুটা কমে যায়।

 উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোমদেল হোসেন জানান, বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে আমাদের উপজেলার কৃষকরা সাধারণত সরিষা চাষ করে থাকেন। ফসল বিক্রি করে যে টাকা পায় তা কাজে ব্যয় করেন। দিয়ে ধান গোবিন্দপুর, গুয়াগাছী, ঘনকৃষ্ণপুর, মারুপাড়া, ভর্নাপাড়া, চাঁদ পাড়া, কুমুরিয়া, রামনগর, খাইরুল, বুলাকীপুর, ইউনিয়নে উপজলোর ও বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ জুড়ে হলুদে ছেয়ে গেছে। ইউনিয়নে, ডাঙ্গা, নারায়ণপুর, রামপাড়া, সাতপাড়া, কৃষ্ণরামপুর, জয়রামপুর, কলাবাড়ী, বিন্যাগাড়ী, রঘুনাথপুরসহ উপজেলার ভর্নাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, সরিষা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমি ১ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। আশা করছি এবার সরিষা চাষে লাভবান হতে পারব। সরিষা তেল শিলীরের পক্ষে খুব উপকারি। তেল,বীজ, মধুর পাশাপাশি সরিষা থেকে উন্নত গো-খাদ্যও তৈরি হয়। উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মোঃ মোমদেল হোসেন বলেন, সরিষাপ্রধানত আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে তথা বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা হয়। সেচ ও সার লাগে কম তা ছাড়া সরিষার পাতা একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তেল, বীজ, মধুর পাশাপাশি কৃষকরা সরিষা থেকে উন্নত গো-খাদ্যও তৈরি করতে পারবে।

 উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মে রফিকুজ্জামান জানান সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে তথা বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা যায়। সেচ ও সার লাগে কম তা ছাড়া সরিষার ঝরে পড়া পাতা ফুল একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সরিষা চাষে খরচ কম হওয়ার কারণে সরিষা চাষ করে খুবই লাভবান হওয়া যায়। সরিষা থেকে ভালোমানের তেল উৎপাদন হয়। সরিষা থেকে তৈরী খৈল গরুর খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয়। এতে প্রচুর পুষ্টি থাকে। প্রণোদনার আওতায় আমরা চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫শত কৃষকে বীজ ও সার সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।উৎপাদন বাড়াতে এ বছর উপজেলার সকল প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ সরিষার বীজ, সার, বিনামুল্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন রেশী এবং ফলন ভালও হবে। প্রণোদনার আওতায় আমরা চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫শত কৃষকে বীজ ও সার সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

আমাদের ৯০-এর শৈশব: যে সময় আর ফিরে আসবে না
এ যেন নদী নয়, অনিশ্চয়তার আর্তনাদ।
মানুষ অভাগা জন্মায় না; তাকে অভাগা বানিয়ে রাখার জন্য সমাজ, রাষ্ট্র ও বাস্তবতার সমন্বিত অনীহাই যথেষ্ট।
আমরা এই মহামূল্যবান পৃথিবীর যোগ্য সন্তান হতে চেয়েছি।