চা বাগান দখলের অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত বিঘা জমিসহ একটি চা বাগান দখলের অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের শালবাড়ি সরদারপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের কাছ থেকে ২৫ বছরের জন্য প্রায় দুই একর ৪০ শতক জমি লিজ নেন কয়েকজন উদ্যোক্তা। দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমি পরিষ্কার করে সেখানে চা বাগান গড়ে তোলেন তারা। ২০১৮ সালের বন্যা ও করোনাকালে লোকসান হলেও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বাগানের পরিচর্যা চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সম্প্রতি কাঁচা চা পাতার দাম বাড়তে শুরু করলে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জোরপূর্বক বাগানটি দখলে নেন রুহুল আমিন প্রধান। তার লোকজন বাগানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
লিজগ্রহীতা তাসরিফুল ইসলাম বলেন, “অনেক কষ্ট করে আমরা জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগান করেছি। এখন যখন কিছুটা লাভের মুখ দেখছি, তখনই আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধান দাবি করেন, জমির মালিক হিসেবে তিনি নিজেই বাগান দখলে নিয়েছেন। তার ভাষ্য, লিজগ্রহীতারা চুক্তির শর্ত মানেননি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে জমিটি পরিত্যক্ত ছিল। ভুক্তভোগীরাই কষ্ট করে বাগান গড়ে তুলেছেন। হঠাৎ দখল নেওয়াকে তারা অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, “বিষয়টি চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় এটি দেওয়ানি বিরোধ। দুই পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চা পাতার বিক্রির টাকা আপাতত থানায় রাখা আছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন