তারাগঞ্জে মন্দিরের ছাদ ভেঙে পড়ার শঙ্কায় পূজা অর্চনা বন্ধ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক মন্দিরের ছাদ ভেঙে পড়ার শঙ্কায় ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা বন্ধ রেখেছে সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া ব্রহ্ম মন্দির ও আশ্রমে গিয়ে দেখা যায় মন্দিরের ছাদের বিভিন্ন যায়গা ভেঙে মাটিতে পরে রয়েছে।
যে কোন সময় ওই মন্দিরের পুরো ছাদটাই ভেঙে যেতে পারে তাই ভয়ে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন আর ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করতে যাচ্ছে না।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্রহ্ম মন্দির ও আশ্রমটিতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারও মানুষ আসে পূজা অর্চনা করার জন্য। কিন্তু মন্দরটি এভাবে পরে থাকার কারণে পূজা অর্চনা না করেই ফিরে যাচ্ছে দূর থেকে মানুষজন।
কাজীপাড়া ব্রহ্ম মন্দির ও আশ্রমের সভাপতি সাধু বিমল চন্দ্র রায় ব্রহ্মচারী বলেন, ' এই মন্দিরের নামে ২১ শতক জমি রয়েছে। খুবই মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই মন্দির। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষেরা আসে এই পূজা অর্চনা করার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো মন্দিরটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। তখনেই আমাদের পূজা অর্চনার জায়গায় ছাদ পেটানো হয়। কিন্তু সেই ছাদটি নষ্ট হয়ে গেছে। ছাদের বিভিন্ন জায়গা খসে খসে পরছে। যে কোন সময় পুরো ছাদটাই ভেঙে যেতে পারে। সেজন্য আমরা এখন ওই মন্দিরে আর পূজা অর্চনা করছিনা। আমাদের মন্দিরের পুরনো ছাদটি ভেঙে নতুন একটি ছাদ দিয়ে আমাদের পূজা অর্চনার পুনরায় ব্যবস্থা করবেন এই আহ্বান জানাচ্ছি'।
ওই মন্দিরের পুরোহিত কালিপদ চন্দ্র রায় ব্রহ্মচারী বলেন, ' আমার খুব কষ্ট লাগছে। আমরা টাকার জন্য আমাদের মন্দিরের ছাদটি নতুন করে তৈরী করতে পারছিনা। আমরা সকাল সন্ধ্যায় আমাদের ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করতাম। ছাদ ভেঙে পড়ার শঙ্কায় আমরা এখন আর ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করতে পারছিনা। দীর্ঘ দিন এভাবে পরে থাকলেও তা সংস্কারের কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। আমরা আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), আমাদের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে জানিয়েছি কেউ সারা দেয়নি এখন পর্যন্ত'।
তারাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হরলাল রায় বলেন, 'মন্দিরটি এভাবে পরে থাকার কারণে সেখানে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় সেখানে কেউ পূজা অর্চনা করছেনা যা সত্যিই দুঃখজনক বিষয়। পূজা অর্চনা করতে না পারলে আমরা ভগবানকে পরকালে কি জবাব দিবো। দ্রুত মন্দিরটির পুরনো ছাদ ভেঙে নতুন ছাদ হোক এটি আমি চাই'।
ওই মন্দিরের সার্বিক সহযোগিতার দায়িত্বে থাকা চন্দনা রানী রায় ব্রহ্মচারী বলেন, ' আমাদের মত কপাল পোড়া আর কে আছে? আমরা মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করতে পারছিনা। সবাইকে বললেও কেউ কোন সাড়া দিচ্ছে না। তারাগঞ্জ ইউএনও কে ২ বার মন্দিরের সংস্কারের জন্য আবেদন করেছিলাম আমরা মন্দির কমিটির লোকজন কিন্তু কোন বরাদ্দ পাইনি'।
ওই ওয়ার্ডের ৫ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল হামিদ প্রামাণিক বলেন, ' বিষয়টি দেখে খুব খারাপ লাগে। আমি দীর্ঘ দিন থেকে এই ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছি। আমার নির্বাচিত ওয়ার্ডের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মন্দিরে পূজা অর্চনা করতে পারছেনা। আমি এই মন্দির সংস্কারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বলেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি'।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, ' আমি তো বিষয়টি আগে শুনিনি। এখন জানতে পারলাম সরে জমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন