‘শহীদদের স্বপ্নপূরণে দায়বদ্ধ আমরা’—আব্দুল করিম, এমপি
আমরা হয়তো শহীদদের পিতা হতে পারিনি, কিন্তু আমাদের সন্তানরাও বিপ্লবের সময় মাঠে ছিল। আজ শহীদদের রক্তে ভেজা পথ ধরেই আমরা এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই শহীদদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কোনো বিকল্প নেই।" বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক আবেগঘন মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমীর মো. আব্দুল করিম এমপি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জেলা কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। জেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জুলাই বিপ্লবে গাইবান্ধার ৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সভায় শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে যখন বক্তব্য শুরু হয়, তখন পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের গর্বিত মাতা মোছা. শাহিনা বেগম তার বক্তৃতায় উপস্থিত সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তোলেন।
তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "আমি আমার কলিজার টুকরা সন্তান সজলের স্বপ্ন পূরণ করব, ইনশাআল্লাহ। আজ শহীদদের নিয়ে অমর্যাদাকর কাজ করা হচ্ছে। আমি একজন বিপ্লবী সন্তানের মা। আমি প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাব—এতে আমাকে যদি হাদীর মতো শহীদ হতে হয়, তবুও আমি একচুলও পিছপা হব না, ইনশাআল্লাহ।"
প্রধান অতিথি মো. আব্দুল করিম এমপি তার বক্তব্যে আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। নতুন প্রজন্মের যে আন্দোলন এবং রক্তের স্রোত বয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। শহীদদের পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও সবসময় পাশে থাকবে।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সভায় জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন: জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মণ্ডল, মাওলানা সাইদুর রহমান, গাইবান্ধা পৌর আমীর অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম মণ্ডল, শিবিরের জেলা সেক্রেটারি ফাহিম মণ্ডল, জেলা শিবিরের অফিস সেক্রেটারি মিজানুর রহমান। এছাড়াও মাছুম মিয়া, পৌর জামায়াত নেতা মাওলানা জোবায়ের আলী, ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি কাজী আমজাদ হোসাইন এবং সদর উপজেলা জামায়াত নেতা নুরুন্নবী সরকারসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সভা শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাদের কল্যাণে বিশেষ দোয়া করা হয়।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন